Recents in Beach

header ads

ছবির লোকগুলোই অধরা

২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর একটি সংঘবদ্ধ ও চিহ্নিত চক্র পরিকল্পিতভাবে কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ার বৌদ্ধপল্লীতে হামলা করে। বৌদ্ধ মন্দিরসহ ঘরবাড়ি ধ্বংস করে। হামলার রাতেই কিছু দুষ্কৃতিকারীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

ছবিতে হামলায় সরাসরি জড়িত ও উস্কানিদাতা হিসেবে পরিচিত অনেককেই পরিস্কার দেখা যায়। ছবিগুলো ইন্টারনেটে প্রকাশের পর দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর কাছে এদের চেহারাও অপরিচিত নয়। কক্সবাজারবাসী ভেবেছিল, দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং এদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। এদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত হোতাদের বের করাও খুব বেশি কঠিন কাজ হবে না। অথচ তারা এতদিনেও গ্রেপ্তার হয়নি।

ছবিতে দেখা যায়, হামলার আগে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি সমাবেশ হয়। পরে হামলাকারীরা বৌদ্ধবিহারে ঢুকে বুদ্ধের মূর্তি ভাঙচুর করছে এবং লুট করছে মন্দিরের দানবাক্স।
ওইসব ঘটনায় ১৯টি মামলা হয়েছে। রামুতে ৮টি ও উখিয়ায় ৭টি মামলা হয়। এছাড়া রামু ও উখিয়ায় হামলার পর পর কক্সবাজার সদর এবং টেকনাফের বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ওই সব হামলায় আরো দুটি করে মামলা হয়।
কিন্তু ছবির সেই লোকগুলোর কাউকেই মামলার চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি। গ্রেপ্তার তো দূরের কথা।
হামলার প্রায় দেড় বছর হতে চলছে, তবুও ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতা কেউ ধরা পড়েনি। এমন বর্বর হামলার বিচার দেড় বছরেও না হওয়াই ক্ষতিগ্রস্তরা বিচার পাবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।
ছবিতে থাকা সংসদ সদস্য ও চেয়ারম্যানকে আসামি করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফ্ফেলা রাজু নাহা বলেন, “আমি তখন এখানে ছিলাম না। তবে আমি শুনেছি, যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য তারা সমাবেশ করেছিল। তাই তাদেরকে চার্জশিটভূক্ত করা হয়নি।”

মামলার অগ্রগতি সর্ম্পকে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “বৌদ্ধপল্লীতে হামলার ঘটনায় করা সবগুলো মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সর্বশেষ মামলাটির চার্জশিট দাখিল করা হয়। এখন মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন আছে।”

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ঘটনার পরপরই রামু পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তবে পরিদর্শনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই ব্যাপারে কোনো প্রকার তৎপরতা দেখা যায়নি বা কোনো কথাও বলেননি গণমাধ্যমের কাছে। এ ব্যাপারে ইমরান এইচ সরকার বলেন, “ আমি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং নিজ খরচে সেখানে গিয়েছিলাম। আমাকে কেউ পাঠায়নি। সেখানে গিয়ে আমরা যে তথ্য পেয়েছিলাম সে তথ্য আগেই গণমাধ্যম পেয়েছিল। তাই আমরা এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করিনি।”
তিনি আরো দাবি করেন, “আমরা মূলত সেখানকার মানুষকে সাহস জোগাতে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে তখন আমরা সফল হয়েছি। কারণ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে অনেকে আছে তা তারা বুঝতে পেরেছিল।”

এদিকে ঘটনার পর ওই বছরের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামুর ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধমন্দির ও বৌদ্ধপল্লী পরিদর্শনে গিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত বৌদ্ধ বিহার পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেন। তিনি সেনাবাহিনীকে যথাযথ ব্যয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধমন্দির ও বসতবাড়ি পুনর্নিমাণসহ সংস্কার করার নিদের্শ দেন। সেনা সদস্যরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে ৭ মাসের মাথায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের ১৯টি বৌদ্ধ মন্দিরের মধ্যে ৭টি বৌদ্ধ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ, ১২ বৌদ্ধ মন্দিরের পুনঃসংস্কারসহ ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বসত বাড়ি নিমার্ণ কাজ সম্পন্ন করেন।

Post a Comment

0 Comments